প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভাবিআগামীকালের দেখা

প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভাবিআগামীকালের দেখা, নূর-এ-সাফী আহনাফের ক্যান্সার ধরা

পড়ে কলেজে থাকতেই। সেই থেকে লড়ছেন, হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে অন্যদেরও সাহস জোগাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন

লিউকেমিয়া অ্যান্ড লিম্ফোমা সোসাইটি অব বাংলাদেশ। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ

থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আত্মহনন ভীষণ কষ্ট দিয়েছে অদম্য এই তরুণকে।

আরও খবর পেতে ভিজিট করুউঃ distonews.com

প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভাবিআগামীকালের দেখা

সেই কষ্টের কথা বলছেন তিনি  ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১৫:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটেপ্রিন্ট প্রতি রাতে ঘুমাতে

যাওয়ার আগে ভাবি, আগামীকালের দেখা পাব তো? এখন কতই বা হতো শশীর বয়স? কোন ক্লাসে পড়ত?

মনে করতে পারছি না। শেষ ওকে দেখেছিলাম ২০১৯ সালে, ও তখন আইসিইউতে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত।

এই অল্প বয়সে মেয়েটা ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে পেরে ওঠেনি। হাঁসের মাংস খুব পছন্দ ছিল ওর।

আমি জানতাম না। আজ বছর তিনেক পর ওর বাবা এসেছিলেন দেখা করতে। ফোন করে আমার বাসার ঠিকানা

নিলেন, সেই কুড়িল বিশ্বরোড থেকে কলাবাগান সাইকেল চালিয়ে এসেছেন। সাইকেলের পেছনে ঝুড়ি,

সেই ঝুড়িতে একটা হাঁস। শশীর বাবা ভাঙ্গারির ব্যবসা করেন। বিভিন্ন পুরনো মাল কেনাবেচা করেন। মেয়েকে হারিয়েছেন

বছর তিনেক আগে মেয়েকে তো আর হাঁসের

মাংস খাওয়ানো হয়নি তাঁর। তাই গ্রাম থেকে নিজের পালা হাঁস নিয়ে এসেছেন আমাকে খাওয়াবেন বলে। আচ্ছা, যারা চলে যায় তারা কি জানে তাদের প্রিয়জনরা প্রতিমুহৃর্তে তাদের জন্য কী রকম ছটফট করে! তারা কি দেখতে পায় প্রিয়জনরা একবুক কষ্ট চেপে কিভাবে জীবনটা পার করে দেয়!

শশী বাঁচতে চেয়েছিল। একটা মুহৃর্ত বাঁচার জন্য ওর সে কী প্রাণান্তকর চেষ্টা! আচ্ছা, যারা স্বেচ্ছায় আত্মহননের পথ বেছে নেয় তারা কি এই মানুষগুলোর খোঁজ জানে? এই পৃথিবীতে জীবন বিনিময়ের কোনো ব্যবস্থা যদি থাকত তাহলে ভালো হতো। যারা স্বেচ্ছায় নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে, তাদের জীবনটা যদি এই মানুষগুলোকে দেওয়া যেত!

বেঁচে থাকার চেয়ে সুন্দর আর কিছু হতে পারে না

ক্যান্সার না হলে, ক্যান্সারযোদ্ধাদের নিয়ে কাজ না করলে বুঝতাম না। প্রতিটি দিন এই মানুষগুলোর কাছে একটা উপহার। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমরা ভাবি, আগামীকালের দেখা পাব তো? একজীবনে কত স্বপ্ন; কিন্তু জীবনটা যে বড্ড ছোট। মাঝে মাঝে আক্ষেপ হয়, এমনিতেই জীবনটা কত ছোট, সেই জীবনে আবার লড়াই করতে হচ্ছে ক্যান্সারের সঙ্গে। এত এত স্বপ্ন! সব পূরণ করে যেতে পারব তো?

আমাদের সহযোদ্ধা আশফাক ভাই মারা যাওয়ার আগে বারবার বলেছিলেন, ‘আহনাফ ভাই, প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন।

প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভাবিআগামীকালের দেখা

একটু সুস্থ হলেই দুজনে সৌদি আরব যাব। একসঙ্গে ওমরাহ পালন করব। ’ আশফাক ভাই আর বিছানা থেকেই উঠতে পারলেন না। শেষ যেদিন কথা হলো তখন তাঁর নাকে-মুখে নল লাগানো। সেদিন তিনি হেসে হেসে বলছিলেন, ‘ভাই! একটু সুস্থ হলেই ওমরাহটা করে আসব দুজনে। ’ একেই বুঝি বলে স্বপ্ন! ওদের স্বপ্ন যে ভীষণ দামি। ওদের প্রতিমূহৃর্ত বেঁচে থাকাটা তার চেয়েও বেশি দামি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.