ধর্ষণের অভিযোগকারীর কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইল অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট

ধর্ষণের অভিযোগকারীর কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইল অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট, অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট

ভবনের ভেতরে মন্ত্রীর দপ্তরে ২০১৯ সালে সহকর্মী দ্বারা ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করা সাবেক

এক নারী কর্মীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। ব্রিটানি হিগিন্সের

অভিযোগ এবং সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে যে আচরণ করেছিলেন, সে ব্যাপারে

সংসদীয় কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি নিয়ে ব্যাপক পর্যালোচনার পর এটি করা হলো।

আরও খবর পেতে ভিজিট করুউঃ distonews.com

ধর্ষণের অভিযোগকারীর কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইল অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট

আজ মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ক্ষমা চাওয়া হয় ব্রিটানি ছাড়াও অন্য যারা সেখানে যৌন অসদাচরণ বা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন,

সবার কাছে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এর আগেও তাঁর প্রতিক্রিয়া নিয়ে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা প্রত্যক্ষ করার জন্য ব্রিটানি হিগিন্স হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস পাবলিক গ্যালারিতে

বসেছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা এবং অন্যান্যদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চান মরিসন।

মরিসন বলেছেন, আমি দুঃখিত, আমরা দুঃখিত। এখানে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর বিষয়গুলোর জন্য আমি হিগিন্সের

কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। যে জায়গা নিরাপত্তার জায়গা হওয়া উচিত ছিল, সেটাই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, আমি অনেক বেশি দুঃখ পেয়েছি। হিগিন্সের আগের (নিপীড়িত) সবার কাছে  কিন্তু তাঁর কথা

বলার সাহস ছিল এবং সে কারণে আমরা এখানে

গত বছর হিগিন্স অভিযোগ তোলার পর হাজার হাজার মানুষ তাঁর সমর্থনে বিক্ষোভ করেছে। এ ঘটনার জেরে লিঙ্গ বৈষম্য বিষয়ক কমিশনার কেট জেনকিন্স তদন্তে জানতে পারেন, পার্লামেন্ট ভবনে কর্মরত প্রতি তিন জনে একজন কর্মী যৌন হয়রানির শিকার।

কেট জেনকিন্সের তদন্ত দল অন্তত ৫০০ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এছাড়া ৩০০ লিখিত অভিযোগ, এক হাজার ৭২৩ জনের বক্তব্য এবং ৩৩ সংস্থার পরামর্শ নিয়েছে। এরপর তারা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পার্লামেন্ট ভবনে পুরুষতান্ত্রিক গুণ্ডামির সংস্কৃতি রয়েছে, যৌন হয়রানি এবং যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে।

ধর্ষণের অভিযোগকারীর কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইল অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট

কেট জেনকিন্সের পর্যালোচনার অন্যতম সুপারিশ ছিল আজকের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে এক রাতে বাইরে খাওয়া-দাওয়া শেষে একজন পুরুষ সহকর্মী ব্রিটানি হিগিন্সকে গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বদলে তাকে পার্লামেন্ট ভবনে প্রতিরক্ষা শিল্প মন্ত্রী লিন্ডা রেনল্ডস-এর দপ্তরে নিয়ে গিয়েছিলেন।

ব্রিটানি হিগিন্স বলেছেন, মদ পান করার কারণে তিনি ঘুম ভাব অনুভব করছিলেন। তার দাবি, মন্ত্রীর দপ্তরে ওই পুরুষ সহকর্মী তাকে ধর্ষণ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.